ইউরোপ আমেরিকায় যে কেউ চাইলেই অ্যালবাম বের করতে পারে না
'খরতাপে পুড়েছি, বৃষ্টিতে ভিজেছি, একটিবার শুধু তোমাকে দেখারই আশায়, তোমাকে দেখারই আশায়...' গানের কণ্ঠশিল্পী, ইভেন্ট অর্গানাইজার হিসেবে জাহাঙ্গীর সাঈদ শোবিজ অঙ্গনের পরিচিত একটি নাম। আজ বাংলাভিশনে মিউজিক ক্লাব অনুষ্ঠানে তার একক গানের অনুষ্ঠান রয়েছে। দীর্ঘদিন পর টিভি লাইভ ও সাম্প্রতিক সংগীত বাজার প্রসঙ্গে কথা বলেছেন তিনি বিনোদন প্রতিদিন-এর সাথে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন তারিফ সৈয়দ
কেমন আছেন? দীর্ঘদিন পর আবারও গান নিয়ে মুখর হলেন, মাঝে বিরতিই বা কেন ছিল?
আসলে সেই অর্থে আমার অবসর বা বিরতি কখনও ছিল না। কারণ সব সময় গানের সাথেই সম্পৃক্ত থেকেছি। লাক্স-চ্যানেল আই বা সিটিসেল মিউজিক অ্যাওয়ার্ডসহ আন্তর্জাতিকমানের একেকটি ইভেন্ট আয়োজন করাটাও বিশাল দায়িত্বের কাজ। অন্য কোনো কিছুর সাথে সম্পৃক্ত থেকে এটা করা যায় না। আর গান তো একান্ত নেশার ব্যাপার। তাই এটা ছাড়াও অসম্ভব।
সর্বশেষ অ্যালবাম বের হওয়ার পরও মাঝে অনেকটা বিরতি। আজকের টিভি লাইভে কোন ধরনের গান করবেন?
নিজের কিছু জনপ্রিয় গান করার ইচ্ছে। আর পাশাপাশি কালজয়ী কিছু গান করব সবধরনের শ্রোতাদের জন্য।
বর্তমান অডিও বাজারের এই নাজুক অবস্থায় একজন সংগীতশিল্পী হিসেবে কী ভাবছেন?
এটা যেকোনো শিল্পীর জন্যই খুব কষ্টের। মাত্র কয়েক বছর আগেও প্রতি ঈদে তিন শ'র ওপরে অ্যালবাম বের হতো। এবং যেই বাজেটেরই অ্যালবাম হোক না কেন, তা থেকে অ্যালবামের লগ্নি খুব সহজে উঠে আসত। আজ সেই কোম্পানিগুলোই বন্ধ হয়ে গেছে। সময়ের সাথে তারা আধুনিক হতে পারেননি। এটা যেমন তাদের ব্যর্থতা। তেমনি সরকারও এটাকে গুরুত্বের সাথে আজও দেখছে না। বা তাদের এই গুরুত্বটা বোঝানোর জন্য শিল্পী হয়ে আমরা তত্পর হয়ে বোঝাতে পারছি না। এরপরে অতি আধুনিকতায় যে ধরনের পাইরেসি বা ডাউনলোডের চক্রের কথা শুনছি, তাতে তো নিজেদের অস্তিত্ব নিয়েই সংকট হয়। এখন নতুন ছেলেমেয়েরা নিজেদের টাকায় অ্যালবাম করছে। অর্থাত্ একমাত্র টাকায় অ্যালবাম বের করার মানদণ্ড হয়ে গেছে। আমি তো অগণিত দেশে বিভিন্ন স্টেজ শোতে পারফর্ম করেছি। তো বেশির ভাগ যাতায়াতের সময় প্লেনে যখন ভিনদেশি যাত্রীরা প্রশ্ন করে আমার পেশা কী, যখন বলি আমি সংগীতশিল্পী। আমার এতগুলো অ্যালবাম বের হয়েছে। তখন ওরা যে সম্মানটা দেয়। তা সত্যিই অতুলনীয়। অর্থাত্ ইউরোপ-আমেরিকায় যে কেউ চাইলেই অ্যালবাম বের করতে পারে না। যা আমাদের দেশ বা উপমহাদেশে সম্ভব। এই মানের অবক্ষয়ের কারণেই আজ এই অবস্থা। এদিকে সরকারের দৃষ্টি দিতে হবে।
বিদেশি শোয়ের কথা যখন তুললেন তখন বলি, আপনি যখন প্রায় একযুগেরও বেশি সময় ধরে দেশের বাইরে শো করছেন বা আয়োজন করছেন। এক্ষেত্রেও অনেক ভুঁইফোড় আয়োজক এখন হয়ে গেছে, তাদের অকর্মের দায়ভার আপনাদের নিতে হয় কী না? কারণ এখন তো অনেক ধরনের স্ক্যান্ডাল-গসিপের খবর শোনা যায়...
এটা তো শুনতেই হয়। ওরা এ বাজারটাকেও নষ্ট করে দিয়েছে। এর ভেতরেও নোংরামি ঢুকে গেছে। এমনও দেশ আছে যেখানে আমি প্রথম বাঙালি কমিউনিটিতে শো আরম্ভ করেছি। যেমন স্পেন, ব্রাসেলস বা চীনে প্রথম বেসরকারি উদ্যোগে আমি শো করি। কিন্তু বর্তমানে এর কোনো নীতিমালা না হওয়ায় যে যার মতো নোংরা করছে পরিবেশটা।
দেশের বাইরে স্টেজ শোয়ের কোনো অভিজ্ঞতা আছে কী?
অনেক মজার অভিজ্ঞতা রয়েছে। এ যাবত তো ৭০টির ওপরে দেশে পারফর্ম করেছি। এমন অনেক তারকা আছে যাদের প্রথম বিদেশ ভ্রমণ আমার হাত ধরে। আর আমাকে যিনি আজ এ পর্যায়ে এনেছেন তিনি আমাদের সাবিনা ইয়াসমিন। তার প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। তো সাবিনা আপার সাথে আমার অনেক দেশ ঘোরা, একসাথে স্টেজ শো করা। সেক্ষেত্রে সাবিনা আপার সাথে অনেক ডুয়েট গানে পারফর্ম করতে হয়। যা হয়তো রেকর্ডিংয়ে তিনি এন্ড্রু দার সাথে গেয়েছিলেন। তো আমি মজা করে বলি, আপা আপনি তো এই গান এন্ড্রু দার সাথে রেকর্ডিংয়ে মাত্র একবার গেয়েছেন। কিন্তু আমি তো এই গান আপনার সাথে কয়েক দেশে কয়েক শতবার গাইলাম। সেই হিসেবে গানটার কপিরাইট কিন্তু আমার। এ ছাড়া বিশ্বখ্যাত অগণিত শিল্পীর সাথে সাক্ষাত্ আমার জীবনের অনেক বড় একটা অর্জন। মাত্র কিছুদিন আগে এ আর রহমানের সাথে আড্ডা-আলাপ হলো। এত বড় মাপের মানুষ অথচ এত অমায়িক তার আচরণ। যা থেকে সত্যিই আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে।
কপিরাইট প্রসঙ্গে এখন আপনার নিজের গানগুলো কিভাবে সংরক্ষণ করছেন?
দেখুন নিজের গানগুলো আমি নিজ উদ্যোগেই সংরক্ষণ করছি। কারণ প্রথমেই বলেছি, ওই প্রতিষ্ঠানগুলোই বন্ধ হয়ে গেছে যারা অনেক কালজয়ী গান তৈরি করেছে। প্রযোজক বা সামাজিক ব্যর্থতায় আজ জেমস ভাইয়ের নতুন গান রেডি থাকা সত্ত্বেও রিলিজ দিচ্ছেন না। এলআরবি মুঠোফোনে দীর্ঘদিন পর কিছু গান দিলেন। কিন্তু তার নতুন গান থেকেও আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। তাই আমিও সেই আগের বিভিন্ন মিক্সড অ্যালবামে গাওয়া জনপ্রিয় গানগুলো সংকলন করে একটা 'বেস্ট অব জাহাঙ্গীর' হিসেবে অ্যালবাম রিলিজের পরিকল্পনা রয়েছে। খুব শিগগিরই হয়তো তা রিলিজ দেব।
আসলে সেই অর্থে আমার অবসর বা বিরতি কখনও ছিল না। কারণ সব সময় গানের সাথেই সম্পৃক্ত থেকেছি। লাক্স-চ্যানেল আই বা সিটিসেল মিউজিক অ্যাওয়ার্ডসহ আন্তর্জাতিকমানের একেকটি ইভেন্ট আয়োজন করাটাও বিশাল দায়িত্বের কাজ। অন্য কোনো কিছুর সাথে সম্পৃক্ত থেকে এটা করা যায় না। আর গান তো একান্ত নেশার ব্যাপার। তাই এটা ছাড়াও অসম্ভব।
সর্বশেষ অ্যালবাম বের হওয়ার পরও মাঝে অনেকটা বিরতি। আজকের টিভি লাইভে কোন ধরনের গান করবেন?
নিজের কিছু জনপ্রিয় গান করার ইচ্ছে। আর পাশাপাশি কালজয়ী কিছু গান করব সবধরনের শ্রোতাদের জন্য।
বর্তমান অডিও বাজারের এই নাজুক অবস্থায় একজন সংগীতশিল্পী হিসেবে কী ভাবছেন?
এটা যেকোনো শিল্পীর জন্যই খুব কষ্টের। মাত্র কয়েক বছর আগেও প্রতি ঈদে তিন শ'র ওপরে অ্যালবাম বের হতো। এবং যেই বাজেটেরই অ্যালবাম হোক না কেন, তা থেকে অ্যালবামের লগ্নি খুব সহজে উঠে আসত। আজ সেই কোম্পানিগুলোই বন্ধ হয়ে গেছে। সময়ের সাথে তারা আধুনিক হতে পারেননি। এটা যেমন তাদের ব্যর্থতা। তেমনি সরকারও এটাকে গুরুত্বের সাথে আজও দেখছে না। বা তাদের এই গুরুত্বটা বোঝানোর জন্য শিল্পী হয়ে আমরা তত্পর হয়ে বোঝাতে পারছি না। এরপরে অতি আধুনিকতায় যে ধরনের পাইরেসি বা ডাউনলোডের চক্রের কথা শুনছি, তাতে তো নিজেদের অস্তিত্ব নিয়েই সংকট হয়। এখন নতুন ছেলেমেয়েরা নিজেদের টাকায় অ্যালবাম করছে। অর্থাত্ একমাত্র টাকায় অ্যালবাম বের করার মানদণ্ড হয়ে গেছে। আমি তো অগণিত দেশে বিভিন্ন স্টেজ শোতে পারফর্ম করেছি। তো বেশির ভাগ যাতায়াতের সময় প্লেনে যখন ভিনদেশি যাত্রীরা প্রশ্ন করে আমার পেশা কী, যখন বলি আমি সংগীতশিল্পী। আমার এতগুলো অ্যালবাম বের হয়েছে। তখন ওরা যে সম্মানটা দেয়। তা সত্যিই অতুলনীয়। অর্থাত্ ইউরোপ-আমেরিকায় যে কেউ চাইলেই অ্যালবাম বের করতে পারে না। যা আমাদের দেশ বা উপমহাদেশে সম্ভব। এই মানের অবক্ষয়ের কারণেই আজ এই অবস্থা। এদিকে সরকারের দৃষ্টি দিতে হবে।
বিদেশি শোয়ের কথা যখন তুললেন তখন বলি, আপনি যখন প্রায় একযুগেরও বেশি সময় ধরে দেশের বাইরে শো করছেন বা আয়োজন করছেন। এক্ষেত্রেও অনেক ভুঁইফোড় আয়োজক এখন হয়ে গেছে, তাদের অকর্মের দায়ভার আপনাদের নিতে হয় কী না? কারণ এখন তো অনেক ধরনের স্ক্যান্ডাল-গসিপের খবর শোনা যায়...
এটা তো শুনতেই হয়। ওরা এ বাজারটাকেও নষ্ট করে দিয়েছে। এর ভেতরেও নোংরামি ঢুকে গেছে। এমনও দেশ আছে যেখানে আমি প্রথম বাঙালি কমিউনিটিতে শো আরম্ভ করেছি। যেমন স্পেন, ব্রাসেলস বা চীনে প্রথম বেসরকারি উদ্যোগে আমি শো করি। কিন্তু বর্তমানে এর কোনো নীতিমালা না হওয়ায় যে যার মতো নোংরা করছে পরিবেশটা।
দেশের বাইরে স্টেজ শোয়ের কোনো অভিজ্ঞতা আছে কী?
অনেক মজার অভিজ্ঞতা রয়েছে। এ যাবত তো ৭০টির ওপরে দেশে পারফর্ম করেছি। এমন অনেক তারকা আছে যাদের প্রথম বিদেশ ভ্রমণ আমার হাত ধরে। আর আমাকে যিনি আজ এ পর্যায়ে এনেছেন তিনি আমাদের সাবিনা ইয়াসমিন। তার প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। তো সাবিনা আপার সাথে আমার অনেক দেশ ঘোরা, একসাথে স্টেজ শো করা। সেক্ষেত্রে সাবিনা আপার সাথে অনেক ডুয়েট গানে পারফর্ম করতে হয়। যা হয়তো রেকর্ডিংয়ে তিনি এন্ড্রু দার সাথে গেয়েছিলেন। তো আমি মজা করে বলি, আপা আপনি তো এই গান এন্ড্রু দার সাথে রেকর্ডিংয়ে মাত্র একবার গেয়েছেন। কিন্তু আমি তো এই গান আপনার সাথে কয়েক দেশে কয়েক শতবার গাইলাম। সেই হিসেবে গানটার কপিরাইট কিন্তু আমার। এ ছাড়া বিশ্বখ্যাত অগণিত শিল্পীর সাথে সাক্ষাত্ আমার জীবনের অনেক বড় একটা অর্জন। মাত্র কিছুদিন আগে এ আর রহমানের সাথে আড্ডা-আলাপ হলো। এত বড় মাপের মানুষ অথচ এত অমায়িক তার আচরণ। যা থেকে সত্যিই আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে।
কপিরাইট প্রসঙ্গে এখন আপনার নিজের গানগুলো কিভাবে সংরক্ষণ করছেন?
দেখুন নিজের গানগুলো আমি নিজ উদ্যোগেই সংরক্ষণ করছি। কারণ প্রথমেই বলেছি, ওই প্রতিষ্ঠানগুলোই বন্ধ হয়ে গেছে যারা অনেক কালজয়ী গান তৈরি করেছে। প্রযোজক বা সামাজিক ব্যর্থতায় আজ জেমস ভাইয়ের নতুন গান রেডি থাকা সত্ত্বেও রিলিজ দিচ্ছেন না। এলআরবি মুঠোফোনে দীর্ঘদিন পর কিছু গান দিলেন। কিন্তু তার নতুন গান থেকেও আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। তাই আমিও সেই আগের বিভিন্ন মিক্সড অ্যালবামে গাওয়া জনপ্রিয় গানগুলো সংকলন করে একটা 'বেস্ট অব জাহাঙ্গীর' হিসেবে অ্যালবাম রিলিজের পরিকল্পনা রয়েছে। খুব শিগগিরই হয়তো তা রিলিজ দেব।
No comments:
Post a Comment