Friday, 23 August 2013

meherpur news

ভারতীয় নাগরিকের সঙ্গে ৩০ লাখ টাকার গরু-মহিষও গেল

মেহেরপুর প্রতিনিধি | আপডেট: ১৬:৫৭, আগস্ট ২৩, ২০১৩
মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর উপজেলার সীমান্তে ভারতীয় নাগরিকসহ ৩০ লাখ টাকার গরু-মহিষ আটকের পর ছেড়ে দিয়েছে বলে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোকতার হোসেন ও স্থানীয় লোকজন এ অভিযোগ করেছেন। এ ব্যাপারে পুলিশের কাছ থেকে সুস্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোকতার হোসেনের ভাষ্য, গতকাল বৃহস্পতিবার মুজিবনগরের সোনাপুর সীমান্তের ১০৬ মেইন পিলারের সামনে একটি মাঠ থেকে চোরাচালানবিরোধী টাস্কফোর্সের অভিযানে তিনি সিরাজুল ইসলাম (৪০) নামের একজন ভারতীয় নাগরিকসহ প্রায় ৩০ লাখ টাকার ৪৮টি গরু-মহিষ আটক করেন। আটক সিরাজুলের বাড়ি ভারতের নদীয়া জেলার নাকাশিয়া থানার পেটুভাঙ্গা গ্রামে। আটক করার সময় মুজিবনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) কয়েকজন পুলিশ, সোনাপুর গ্রামের ইউপি সদস্য সোহরাব হোসেন তাঁর (ইউএনও) সঙ্গে ছিলেন। আটক ভারতীয় নাগরিককে পুলিশে সোপর্দ করার পর গরু-মহিষ সোহরাব হোসেনের জিম্মায় দেওয়া হয়। বিষয়টি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে জানানো হয়। কিন্তু পুলিশ সুপারের নির্দেশে আটক ভারতীয় নাগরিকসহ গরু-মহিষ ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। তিনি ওই ঘটনার ব্যাখ্যা চেয়ে ওসিকে নোটিশ দেবেন বলে জানান। এ ঘটনায় সোনাপুর গ্রামের ওই ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করবেন বলেও জানান।
নাম প্রকাশ না করে একাধিক গ্রামবাসীর দাবি, সোনাপুর সীমান্ত মাঠে দীর্ঘদিন ধরে ভারতের অবৈধ গরু-মহিষের হাট বসে। আটক ভারতীয় নাগরিক সিরাজুল ইসলামসহ (৪০) মেহেরপুরের কয়েকজন চোরাকারবারি ও প্রভাবশালী নেতা ওই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। আটক প্রতিটি গরু-মহিষের দাম ৭০-৮০ হাজার টাকা। আটক হওয়ার পর সিরাজুল ইসলাম ও গরু-মহিষগুলোকে ছাড়াতে ওই প্রভাবশালী চক্রটি মরিয়া হয়ে ওঠে। পুলিশকে বড় অঙ্কের ঘুষ দিয়ে সব ছাড়িয়ে নেওয়া হয় বলে তাঁদের অভিযোগ।
এ ব্যাপারে মুজিবনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম বলেন, ‘আটক ভারতীয়কে থানাহাজতে রাখার পর তাঁকে পুলিশ সুপারের নির্দেশে মেহেরপুর পাঠানো হয়। সেখানে এসপি সাহেবের কাছে তিনি নিজেকে সোনাপুর গ্রামের বাসিন্দা বলে পরিচয় দেন। পরে এসপি স্যার তাঁকে ছেড়ে দিয়েছেন। আটক গরু-মহিষ কীভাবে ছাড়া হলো, তা তিনি জানেন না বলে জানান।
এ ব্যাপারে মুজিবনগরের বাগোয়ান ইউনিয়ন পরিষদের সোনাপুর গ্রামের সদস্য সোহরাব হোসেন বলেন, গরু-মহিষ তাঁর জিম্মায় ছিল। পরে প্রভাবশালী চক্রের চাপে তিনি গরু-মহিষগুলো গ্রামের দুই ব্যবসায়ীর মাধ্যমে ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। চক্রটির নাম তিনি বলেননি। এখন ইউএনও মামলা করলে তিনি এ কথাই বলবেন।
কেন ওই আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া হলো—জানতে চাইলে পুলিশ সুপার মোফাজ্জেল হোসেন জানান, আটক ভারতীয় তাঁর কাছে নিজেকে সোনাপুর গ্রামের বাসিন্দা ও বাগোয়ান ইউপি চেয়ারম্যানের ভাই বলে পরিচয় দেন। পরে ওই  ইউপি চেয়ারম্যান জিম্মানামা দিলে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
বাগোয়ান ইউপি চেয়ারম্যান ও মুজিবনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আয়ুব হোসেন জানান, সিরাজুল ইসলাম নামে তাঁর কোনো ভাই নেই। তিনি কাউকে ছাড়াতে পুলিশ সুপারের কাছে জিম্মানামা দেননি। আটক ভারতীয়সহ গরু-মহিষগুলো কোথায় গেল, তা পুলিশই জানে বলে তিনি দাবি করেন।

No comments:

Post a Comment