Sunday, 19 January 2014

binodon5

সুচিত্রা সেনের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে তাঁর মেয়ে মুনমুন সেন (মাঝে), দুই নাতনি রাইমা ও রিয়া সেন । ছবি: সংগৃহীতট্রাক থেকে নামছে শামিয়ানা। নামানো হচ্ছে ডেকোরেটরের নানা সামগ্রী। যে বাড়ির সামনে এই আয়োজন, তার নাম ‘বেদান্ত’। নম্বর ৫২/৪/১। পাশাপাশি কয়েকটি ভবন। মহানায়িকা সুচিত্রা সেন থাকতেন এখানে।
অন্তরালে যাওয়ার পর থেকেই সুচিত্রার বাড়ির সামনে ভিড় করতেন গুণমুগ্ধরা। শুধু স্বপ্নের নায়িকাকে একবার চোখের দেখা দেখার জন্য। গতকাল রোববার মহানায়িকার মৃত্যুর দুই দিন পরেও ভক্তদের ভিড় করতে দেখা গেল বাড়ির সামনে। তাঁদের হাতে নানা রকমের ফুলের তোড়া। আগেও সুচিত্রাভক্তরা নানা উপহার নিয়ে আসতেন তাঁকে দেওয়ার জন্য। কিন্তু কোনো দিনই সেসব উপহার নিরাপত্তার ঘেরাটোপ টপকে তাঁর কাছে পৌঁছাত না। গতকালও ভক্তদের ফুলের তোড়াগুলো সেই বাধা টপকাতে পারল না।
আজ সোমবার মহানায়িকার পারলৌকিক কাজ। তাই বেদান্ত আবাসনের ছাদে শামিয়ানা তৈরির কাজ চলছে। তিন হাজার বর্গফুটের ‘তিন-ডি’ ফ্ল্যাটে (এ ফ্ল্যাটেই থাকতেন সুচিত্রা সেন) চলছে গোছানোর কাজ। বাড়ির সামনে পুলিশের পাহারা। যে ফ্ল্যাটে সুচিত্রা থাকতেন, সেখানে বাইরের কারোরই প্রবেশের অনুমতি মিলছে না। উৎসুক ভক্তদের পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা বাড়ির সামনে রাস্তায় অপেক্ষা করছেন। তবে সুচিত্রা সেন কিংবা তাঁর মেয়ে মুনমুন সেনের ফ্ল্যাটে রোববার টালিউডের বিশেষ কোনো তারকাকে আসতে দেখা যায়নি।
বেদান্ত আবাসনের ভেতরে থেকে যেসব কর্মী বাইরে আসা-যাওয়া করছেন, তাঁরা সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে তেমন কথা বলছেন না। জানা গেছে, পরিবারের পক্ষ থেকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে, সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে মহানায়িকাকে নিয়ে আলোচনা না করতে। কিন্তু সংবাদকর্মীদের কি আর চেষ্টার কমতি আছে! তা ছাড়া, ওই বাড়ির দীর্ঘদিনের মালি জয়ন্ত বিসওয়াল কিংবা বিদ্যুৎমিস্ত্রি শ্যামল মণ্ডলদের যে বলার মতো অনেক কিছুই আছে মহানায়িকা সম্পর্কে। অনুরোধ না এড়াতে পেরে দু-এক কথা বললেন তাঁরা। শ্যামল মণ্ডল জানালেন, মহানায়িকাকে তিনি মা বলে ডাকতেন। অনেকবার কথা হয়েছে। দেখা হলেই তাঁর পরিবারের খোঁজ নিতেন।
মালি জয়ন্তর কষ্টের সঙ্গে আক্ষেপও রয়ে গেছে। চলে যাওয়ার আগের দিন মহানায়িকা কিছুটা সুস্থ হয়েছিলেন। বলেছিলেন বাড়ি ফিরবেন। কিন্তু ফিরলেন না। বাগান থেকে সুচিত্রা সেনের পছন্দের ফুলগুলো তুলে জয়ন্ত সাজিয়ে রেখেছিলেন তাঁর ঘরের দরজার সামনে।
মহানায়িকা সুচিত্রা সেন চলে গেছেন চির-অন্তরালে। তাঁর বাড়ি ‘বেদান্ত’র সামনে গতকালও ছিল ভক্তদের উপস্থিতি। ছবি: প্রথম আলোমহানায়িকা ক্লিনিকে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই মন ভার ছিল বেদান্ত আবাসনের কর্মীদের। অন্তরালে থাকা সুচিত্রার কাছে মাঝেমধ্যেই ডাক পড়ত তাঁদের অনেকেরই। যেমন তত্ত্বাবধায়ক রামকৃষ্ণ সাউ, মালি জয়ন্ত বিসওয়াল, নিরঞ্জন বিসওয়াল, মুনমুন সেনের গাড়িচালক অবিনাশ তাঁর কাছাকাছি যেতে পারতেন। মালি জয়ন্ত আবদার করেছিলেন অসুস্থ নায়িকাকে একটিবার দেখতে যাবেন। মুনমুন সেনের সম্মতি নিয়ে গত বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় তাঁরা গিয়েছিলেন বেল ভিউ ক্লিনিকে। জয়ন্তর বর্ণনায় জানা যায়, কেবিনের সামনে দাঁড়াতেই স্মিত হেসে সুচিত্রা জয়ন্ত বিসওয়ালের দিকে তাকিয়ে বলেছিলেন, ‘এসেছিস তোরা? আয় ভেতরে আয়।’
মালি জয়ন্ত জানালেন, সুচিত্রা সেন ফুল খুব ভালোবাসতেন। বাগানে নতুন ফুল ফুটলেই তিনি দিয়ে আসতেন। দু-এক সপ্তাহ ফুল নিয়ে না গেলে তিনি নিজেই নিরাপত্তারক্ষীদের ফোন করে আমাকে ডেকে পাঠাতেন। মৃদু ধমক দিয়ে বলতেন, ‘কী রে, ফুল কোথায় আমার?’ সুচিত্রার জানালা দিয়ে বাগান দেখা যেত। তাঁর সব জানালাই পর্দায় ঢাকা থাকত। শুধু বাগানের দিকেই জানালার পর্দা সরানো থাকত। জয়ন্ত বলেন, ‘বাগানে কাজ করতে করতে আমি কত দিন দেখেছি, তিনি জানালায় বসে ফুলের বাগান দেখছেন। বাগানে ফুল ফুটে আছে এখনো, কিন্তু মানুষটি নেই।’
সুচিত্রার ঘরে এখনো আলো জ্বলছে। জানা গেছে, মেয়ে মুনমুনের নির্দেশে গেল শনিবার দুপুরেই সুচিত্রা সেনের ফ্ল্যাটের কেটে যাওয়া কয়েকটি বাল্ব পাল্টে দিয়ে এসেছেন বিদ্যুৎমিস্ত্রি শ্যামল। তিনি জানালেন, ওই দিন থেকে অবিরাম আলো জ্বলছে মহানায়িকা যে ঘরে থাকতেন, সেই ঘরে। তাই নতুন বাল্ব লাগানো হয়েছে। তবে পারলৌকিক কাজের পর থেকে অন্ধকারে ডুবে যাবে নায়িকার ঘর। সেখানে আলো জ্বালানোর মানুষটি আর নেই।
এদিকে কলকাতা নগরের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোতে সুচিত্রা সেনের বিশাল আকৃতির ছবি স্থাপন করা হয়েছে। শনিবার সেখানে অনেকে মালা দিয়েছেন। গতকাল রোববারও মহানায়িকার ছবির সামনে ফুল দেওয়া অব্যাহত ছিল ভক্তদের।


bangla binodon

মাহি  ছবি: প্রথম আলোমাহি এবার অভিনয় করছেন দেশা: দ্য লিডার ছবিতে। গত মঙ্গলবার বিকেলে এফডিসির ২ নম্বর ফ্লোরে ছবিটির মহরত অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানে ছবির অভিনয়শিল্পী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রযোজক, পরিচালকসহ অন্য কলাকুশলীরা।
মাহি বলেন, ‘দেশা: দ্য লিডার ছবিটি নিয়ে আমি ভয় পাচ্ছি। হাত-পা রীতিমতো কাঁপছে—চিত্রনাট্য অনুযায়ী অভিনয় করতে পারব কি না, এই ভেবে।’
দেশা: দ্য লিডার রোমান্টিক ও অ্যাকশন ধাঁচের চলচ্চিত্র। পরিচালনা করছেন সৈকত নাসির। ছবিতে আরও অভিনয় করছেন তারিক আনাম খান, সোহেল খান, মঞ্জুরুল করিম, শিপনসহ অনেকে। গানের সুর ও সংগীত পরিচালনা করছেন শফিক তুহিন।
দেশা: দ্য লিডার ছবিটি প্রযোজনা করছে জাজ মাল্টিমিডিয়া।

top sport

১২৩ রানের ইনিংস খেলেও নিউজিল্যান্ডের উল্লাসটাই শেষ পর্যন্ত নত মাথায় মেনে নিতে হলো কোহলিকে৪৮ বলে দরকার ৭০। ক্রিকেটের মারকাটারি এই যুগে খুব কঠিন সমীকরণ কি? হিসাব বলছে খুব কঠিন নয়। সেটি আরও সহজ হয়ে যাওয়ার কথা উইকেটে যখন ১০৯ রানে ব্যাট করছেন বিরাট কোহলি আর ৪০ রানে মহেন্দ্র সিং ধোনি। ভারতের হাতে ছয়-ছয়টি উইকেট। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের টানা সপ্তম জয়ের দিকেই তখন হেলে আছে ম্যাচের পাল্লা। সবচেয়ে বড় কথা, কোহলি সেঞ্চুরি করেছেন আর ভারত ম্যাচ হেরেছে—আগের ১৭ সেঞ্চুরির মধ্যে মাত্র একবারই ঘটেছে এমনটা।
কিন্তু ৬ বলের মধ্যে পাল্টে গেল দৃশ্যপট। পাল্টে ফেললেন মিচেল ম্যাকক্লেনাঘান। ইনিংসের ৪৩ আর নিজের অষ্টম ওভারের তৃতীয় বলে ফেরালেন ধোনিকে। ওই ওভারের শেষ বলে তাঁর শিকার রবীন্দ্র জাদেজা। ম্যাকক্লেনাঘান আসল কাজটি করলেন পরের ওভারে। দ্বিতীয় বলে ফেরালেন মার্ক ওয়াহর ১৮ সেঞ্চুরির রেকর্ড ছোঁয়া কোহলিকে। ম্যাচের পাল্লাও শাঁ করে ঘুরে গেল নিউজিল্যান্ডের দিকে। ১৩ রান আর ৬ বলের মধ্যে তিন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে ম্যাচটাও হেরে গেল ভারত। র‌্যাঙ্কিংয়ের আট নম্বরের দল নিউজিল্যান্ড নেপিয়ারে হারিয়ে দিল এক নম্বর দল ভারতকে। ২৪ রানের জয় দিয়ে সিরিজের শুভসূচনা করল কিউইরা।
ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া বোলিং, সব মিলিয়ে ৬৮ রানে ৪ উইকেট। তার পরও কিন্তু ম্যাচ সেরার পুরস্কার ওঠেনি ম্যাকক্লেনাঘানের হাতে। সেটি পেয়েছেন কদিন আগে দ্রুততম ওয়ানডে সেঞ্চুরির রেকর্ড হাঁকানো কোরি অ্যান্ডারসন। নিউজিল্যান্ড যে ৭ উইকেটে ২৯২ রান তুলল, সেটা মূলত তাঁর সৌজন্যেই। কেন উইলিয়ামসন ৭১ করেছেন। রস টেলর ৫৫। ৩২ রানে দুই ওপেনারকে হারানোর পর এই দুজনের ১২১ রানের জুটিও গড়ে দিয়েছিল ভিত্তি। কিন্তু সেই ভিত্তিতে দাঁড়িয়ে আসল প্রাসাদ নির্মাণ করেছেন অ্যান্ডারসনই।
তাঁর ৪০ বলে ৩টি চার ও ৪ ছক্কায় খেলা ৬৮ রানের ইনিংসটাতে ভর করেই শেষ দশ ওভারে ৯০ রান তুলেছে নিউজিল্যান্ড। লুক রনকির ১৮ বলে ৩০ রানের ঝোড়ো ইনিংসটাও রেখেছে বড় ভূমিকা।
২৯৩ রানের লক্ষ্য অবশ্যই কঠিন। সেটি ভারতের জন্য আরও কঠিন মনে হচ্ছিল পরিসংখ্যানের কারণে। নিউজিল্যান্ডে এর আগে পরে ব্যাট করে সর্বোচ্চ ২৫২ রান করে জিতেছিল ভারত, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। নিউজিল্যান্ডে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের রান তাড়া করে জেতার রেকর্ডটি শোচনীয়ই। সেটি ২১৪ রানের।
কিন্তু মনে হচ্ছিল আজ নতুন করেই পরিসংখ্যানের পাতা কিছু যোগ করতে চায় ধোনির দল। বিশেষ করে কোহলি যখন ছিলেন ভীষণ আত্মপ্রত্যয়ী। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হলো না ম্যাকক্লেনাঘানের ওই ৬ বলের হিসাব পাল্টে দেওয়া স্পেলটায়। তবে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বল হাতেও দুটো গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হলেন অ্যান্ডারসন।

sports

মাহেলা জয়াবর্ধনে ও অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের পঞ্চম উইকেট জুটি ১৭৬ বলে তুলল ৩৮ রান। লঙ্কানদের শম্বুক গতিতে চলা দেখে হতাশ মিসবাহ?প্রায় ১৪ বছর হয়ে গেল বিদেশের মাটিতে টেস্ট সিরিজ জেতার স্বাদ পায়নি শ্রীলঙ্কা। জয়ের তীব্র ক্ষুধা নিয়েই লঙ্কানরা সিরিজ খেলতে এসেছিল মরু দেশে। সোনালি সুযোগের হাতছানি পাকিস্তানের বিপক্ষে এই সিরিজ। আগেই বলা হয়েছে তৃতীয় ও শেষ টেস্টটা ড্র করলেই চলে তাদের। গত টেস্ট জিতে রাখায় তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। শ্রীলঙ্কা যে ড্র করার কৌশল নিয়েই মাঠে নেমেছে, অনেকটাই পরিষ্কার শারজা টেস্টের চতুর্থ দিনে।
পাকিস্তান ৩৪১ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে শ্রীলঙ্কার ব্যাট দেখে বাউলসম্রাট শাহ আবদুল করিমের ‘গাড়ি চলে না, চলে না’ গানটিই যেন মনে পড়ে। ৭১ ওভারে লঙ্কানরা ৫ উইকেটে তুলেছে ১৩৩। ওভারপ্রতি রানের তথ্য শুনলে শ্রীলঙ্কার ‘পরিকল্পনা’ খনিজ জলের মতো পরিষ্কার হবে। ওভারপ্রতি অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের দল তুলেছে মোটে ১.৮৭। ১৯৯৪ সালের পর টেস্টে শ্রীলঙ্কার এটাই সবচেয়ে শম্বুক গতিতে রান তোলা (অন্তত ৫০ ওভার খেলেছে এমন ম্যাচে)। আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত ভারতের বিপক্ষে সেবার (১৯৯৪ সালে) লঙ্কানরা ইনিংস ও ১৭ রানে হেরেছিল। তবে এখনকার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। শ্রীলঙ্কার এ ‘ধীরে চলো নীতি’ মূলত সিরিজ জয়ের জন্যই।
প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও ফিফটি ফসকে গেল গত ম্যাচে শতক হাঁকানো মাহেলা জয়াবর্ধনের। ১২৭ রানে ৫ উইকেট পড়ে যাওয়ার পরও লঙ্কানদের ড্রয়ের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রেখেছেন ফর্মের তুঙ্গে থাকা অধিনায়ক ম্যাথুস। অপরাজিত রয়েছেন ১৪ রানে। সঙ্গে রয়েছেন প্রসন্ন জয়াবর্ধনে (৬)। দিনের শেষে শ্রীলঙ্কা এগিয়ে রয়েছে ২২০ রানে। পাকিস্তানের পক্ষে সর্বোচ্চ মোহাম্মদ তালহা ও আবদুর রেহমান নিয়েছেন দুটি করে উইকেট।

এর আগে চতুর্থ দিনে পাকিস্তান মাত্র ৫০ রান যোগ করতেই খুইয়েছে অবশিষ্ট ৪ উইকেট। ৩৪১-এ থেমেছে প্রথম ইনিংস। অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হকের ব্যাট এদিনও কথা বলেছে। ছুঁয়েছেন ২৪তম টেস্ট ফিফটি। রঙ্গনা হেরাথের শিকার হওয়ার আগে করেছেন ৬৩। হেরাথ একাই পেয়েছেন ৫ উইকেট।

world news

কাবুলে আত্মঘাতী হামলা, নিহত ২১
প্রত্যক্ষদর্শী ও সরকারি কর্মকর্তারা জানান, কাবুলের জনপ্রিয় ট্যাভরনা দু লিবান রেস্তোরাঁয় গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ওই হামলার ঘটনা ঘটে। প্রথমে একজন আত্মঘাতী হামলাকারী রেস্তোরাঁটির সুরক্ষিত প্রবেশদ্বারে গিয়ে নিজের পোশাকের ভেতরে স্থাপন করা বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এরপর দুজন জঙ্গি ভেতরে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে।রেস্তোরাঁর সহকারী বাবুর্চি আতিকুল্লাহ বলেন, ‘আমরা রান্নাঘরে ছিলাম। হঠাৎ বিকট বিস্ফোরণ শুনতে পাই। এরপর চারদিক অন্ধকার হয়ে যায়। পরে আমরা গুলির শব্দ শুনতে পাই।’নিহত আইএমএফ কর্মকর্তার নাম ওয়াবেল আবদুল্লাহ। লেবাননের নাগরিক ওয়াবেল আফগানিস্তানে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কর্মকর্তা। রেস্তোরাঁটির লেবাননি মালিকও নিহত হয়েছেন। বিদেশি অন্যদের মধ্যে দুজন ব্রিটিশ ও দুজন কানাডীয় নাগরিক। এ ছাড়া আফগানিস্তানে মোতায়েন ইউরোপীয় পুলিশ মিশনের একজন ডেনিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘের নিহত চার কর্মীর জাতীয়তা নিশ্চিত করা হয়নি। বাকি আটজন স্থানীয় মানুষ। এ ছাড়া তিন হামলাকারীই নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।কূটনীতিক, ত্রাণকর্মীসহ বিভিন্ন পেশার বিদেশি নাগরিক এবং আফগান কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীরা কয়েক বছর ধরে নিয়মিত খেতে যেতেন ট্যাভরনা রেস্তোরাঁয়। শুক্রবার আফগানিস্তানে সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় সেখানে লোকের সমাগম ছিল অনেক বেশি। কাবুলের অন্যান্য রেস্তোরাঁর মতো ট্যাভরনাতেও কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল। মূল দরজায় সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষীর পাশাপাশি ইস্পাত-নির্মিত অন্তত দুটি নিরাপত্তা-দরজায় তল্লাশির পরই রেস্তোরাঁটির ভেতরে ঢোকা যায়।গতকাল শনিবার ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমার আঘাতে ধ্বংসের চিহ্ন চোখে পড়ে। ধ্বংসাবশেষে পরিণত হওয়া রেস্তোরাঁর মূল ফটকের সামনে পড়ে ছিল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি গাড়ি।কাবুল পুলিশের প্রধান মোহাম্মদ জহির বলেন, ‘আমাদের সর্বশেষ হিসাবমতে, হামলায় ২১ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৩ জন বিদেশি এবং আটজন আফগান নাগরিক। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজন নারী। এ ছাড়া পাঁচজন আহত হয়েছেন।’জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘বেসামরিক লোকজনের ওপর এ হামলা সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।’হামলার দায়িত্ব স্বীকার করে বিবৃতি দিয়েছে তালেবান। সংগঠনটির মুখপাত্র জাবিহউল্লাহ মুজাহিদের দেওয়া ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবার রাতে পারওয়ান প্রদেশে চালানো মার্কিন বিমান হামলার প্রতিশোধ নিতে এই হামলা করা হয়েছে। এ ধরনের হামলা অব্যাহত থাকবে। এএফপি ও বিবিসি।

bollywood

খাল কেটে কুমির এনেছিলেন রণবীর সিং!
 
রণবীর সিং-আনুশকা শর্মা-বিরাট কোহলিবলিউডের অভিনেত্রী আনুশকা শর্মা ও ক্রিকেটার বিরাট কোহলির প্রেমের বিষয়টি এখন অনেকটা খোলা বইয়ের পাতার মতোই। সম্প্রতি এক খবরে জিনিউজ জানিয়েছে, বিরাটের সঙ্গে আনুশকার প্রথম পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন তাঁরই সাবেক প্রেমিক রণবীর সিং। মজার বিষয় হল, রণবীরের সঙ্গে বিচ্ছেদের পরপরই বিরাটকে কাছে টেনেছিলেন ২৫ বছর বয়সী আনুশকা। তবে কি খাল কেটে কুমির এনেছিলেন বেচারা রণবীর!
বেশ কিছুদিন ধরেই আনুশকা-বিরাটের প্রেমের গুঞ্জন চলছিল। বিরাটকে স্রেফ ভালো বন্ধু বলে দাবি করলেও, সপ্তাহ খানেক আগে আনুশকার বাড়িতে বিরাট টানা পাঁচ দিন থাকার খবর ফাঁস হওয়ার পর আনুশকার দাবিটি ঠিক ধোপে টিকছে না। আনুশকা-বিরাটের বাড়াবাড়ি রকমের সখ্য নিয়ে একাধিকবার মুখরোচক সব খবর প্রকাশিত হওয়ার পর অনেকেই বলছেন, বন্ধুত্বের বাইরেও বিশেষ সম্পর্কে জড়িয়েছেন এ জুটি।
২০১০ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ব্যান্ড বাজা বারাত’ ছবিতে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছিলেন আনুশকা-রণবীর। ছবিটির শুটিং চলার সময় প্রথম তাঁদের প্রেমের খবর চাউর হয়। পরের বছর ‘লেডিস ভার্সেস রিকি বেহেল’ ছবিতে আবার জুটি বাঁধেন তাঁরা। ২০১২ সাল পর্যন্ত বহুবার এই জুটির সখ্যের খবর চাউর হয়েছে। অবশ্য বলিউডের প্রেমের চিরায়ত রীতি মেনে কখনোই প্রেমের কথা স্বীকার করেননি আনুশকা-রণবীর। ২০১২ সালের আগস্টে বলিউডকেন্দ্রিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, সম্পর্কের ইতি টেনেছেন এই জুটি।
আনুশকার সঙ্গে রণবীরের প্রেম যখন তুঙ্গে ঠিক তখনই একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে বিরাটের সঙ্গে সাক্ষাত্ হয়েছিল রণবীরের। একদিন তিনিই আনুশকার সঙ্গে বিরাটের পরিচয় করিয়ে দেন। পরবর্তী সময়ে রণবীর-আনুশকার ভেতর দূরত্ব তৈরি হয়। একটা পর্যায়ে একে অপরকে ছেড়ে চলে যান তাঁরা। রণবীরের সঙ্গে বিচ্ছেদের পরপরই বিরাটের সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠে আনুশকার।
গত বছর ক্লিয়ার শ্যাম্পুর বিজ্ঞাপনচিত্রে মডেল হিসেবে অভিনয় করেন আনুশকা ও বিরাট। এত দিন গোপন থাকলেও সম্প্রতি জানা গেছে, আনুশকার অনুরোধেই বিজ্ঞাপনচিত্রটিতে বিরাটকে চুক্তিবদ্ধ করা হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ১০ নভেম্বর মধ্যরাতে মুম্বাইয়ের ভারসোভা এলাকায় আনুশকার কালো রঙের রেঞ্জ রোভার গাড়িতে দেখা যায় বিরাটকে। তাঁদের একসঙ্গে দেখা যাওয়ার পর এই জুটির প্রেমের খবর চাউর হয় বলিউডে।
শুরুতে চুপ থাকলেও পরে বিরাট প্রসঙ্গে মুখ খোলেন আনুশকা। তিনি দাবি করেন, ‘আমি বিরাটের সঙ্গে অভিসারে মেতে উঠিনি। তবে তাঁর সঙ্গে আমার দারুণ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। বিরাট খুবই ভদ্র ও মার্জিত একজন মানুষ। হ্যাঁ, মাঝেমধ্যে আমাদের দেখা-সাক্ষাত্ হয়। তিনি আমার বাসায় আসেন। আমি মনে করি, এটা খুবই স্বাভাবিক একটি ঘটনা। বন্ধুদের মধ্যে তো দেখা-সাক্ষাত্ হবেই। কিন্তু আমি নিশ্চিত করেই বলতে পারি, আমরা প্রেমের সম্পর্কে জড়াইনি।’
এ ছাড়া আনুশকার প্রতিবেশীদের দাবি, আনুশকার বাড়ি থেকে বিরাটকে বের হতে দেখেছেন তাঁরা। এ বিষয়ে আনুশকার মন্তব্য ছিল, ‘আমার প্রতিবেশীদের অবসর সময় কাটানোর বোধ হয় তেমন কোনো ভালো ব্যবস্থা নেই। এ জন্য আমার ওপর গোয়েন্দাগিরি করেন তাঁরা।’
শুধু তা-ই নয়, আনুশকা তাঁর অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের লিফটে এক নারীর সামনে বিরাটের ঠোঁটে চুমু খেয়েছেন বলেও খবর চাউর হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আনুশকা হাসতে হাসতে বলেন, ‘চুমু খাওয়া তো দূরের কথা, কাউকে আলিঙ্গন করার অভ্যাসও আমার নেই। ছবির সেটে সবাই যখন একে অন্যকে আলিঙ্গন করে, তখন খুবই অস্বস্তি অনুভব করি আমি।’
বিরাটের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়াননি দাবি করার কয়েক দিনের মাথায় আনুশকার বাড়িতে মাঝরাতের অতিথি হিসেবে হাজির হন বিরাট। তিনি বেশ নাটকীয়তা করেই মাঝরাতে আনুশকার বাড়িতে যান। দক্ষিণ আফ্রিকা সফর শেষে গত ৩১ ডিসেম্বর রাতে মুম্বাই বিমানবন্দরে নামেন বিরাট। তাঁর সফরসঙ্গী অন্য ক্রিকেটাররা তাঁদের জন্য অপেক্ষমাণ বাসে চেপে বিমানবন্দর এলাকা ত্যাগ করলেও থেকে যান বিরাট। কিছুক্ষণ পর তড়িঘড়ি করে একটি সাদা রঙের অওডি গাড়িতে চেপে বিমানবন্দর এলাকা ত্যাগ করেন বিরাট। আর তাঁর সঙ্গে থাকা মালপত্র ওঠানো হয় একটি রেঞ্জ রোভার গাড়িতে। গাড়ির নম্বর প্লেট দেখে নিশ্চিত হওয়া যায়, সেটা আনুশকারই গাড়ি। মুম্বাইয়ের ইয়ারি রোডে আনুশকার বাড়িতে বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে বর্ষবরণ উত্সবে মেতে ওঠেন বিরাট। তিনি সারা রাত মাস্তি করে পরদিন বিকেলে আনুশকার বাড়ি ত্যাগ করেন।
ঘটনার এখানেই শেষ নয়। আনুশকা কিছুদিন আগে জুহুতে বদরিনাথ টাওয়ারের ২০ তলায় তিনটি ফ্ল্যাট কিনেছেন। আনুশকার নতুন বাড়িতে বিরাটকে দেখা গেলে হইচই পড়ে যায়। টানা পাঁচ দিন তিনি সেখানেই ছিলেন। বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বদরিনাথ টাওয়ারের একজন নিরাপত্তাকর্মী। আনুশকা-বিরাট মুখ না খুললেও ধারণা করা হচ্ছে, এক বাড়িতেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আলোচিত এ জুটি।